উক্তি-পরিবর্তন :
প্রত্যক্ষ উক্তিকে, পরোক্ষ উক্তিতে এবং পরোক্ষ উক্তিকে, প্রত্যক্ষ উক্তিতে পরিণত করার রীতি কে বলা হয় উক্তি পরিবর্তন।
আলোচ্য বিষয় গুলি:
- উক্তি
- প্রত্যক্ষ উক্তি
- পরোক্ষ উক্তি
- উক্তি পরিবর্তন কাকে বলে
- উক্তি পরিবর্তন এর নিয়ম
- সর্বনাম ও কালসূচক পদের পরিবর্তন প্র
- শ্নবোধক বাক্যের উক্তি পরিবর্তন
- অনুজ্ঞাসূচক বাক্যের উক্তি পরিবর্তন
- আবেগসূচক বাক্যের উক্তি পরিবর্তন
উক্তি দু-রকমের হয়-
- প্রত্যক্ষ উক্তি।
- পরোক্ষ উক্তি।
প্রত্যক্ষ উক্তি :-
বক্তার কথা অবিকৃতভাবে উপস্থাপিত হলে তাকে প্রত্যক্ষ উক্তি বলা হয়।যেমন - বাবা আমাকে প্রায়ই বলেন, "ভালো করে পড়াশোনা করো, নইলে পরে কষ্ট পেতে হবে।" প্রত্যক্ষ উক্তির ক্ষেত্রে সাধারণত উদ্ধৃতিচিহ্ন ( " ") ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
পরোক্ষ উক্তি :-
বক্তার কথার বিষয়বস্তুকে অবিকৃত রেখে আর একজন যখন সেই কথাকে নিজের মতো করে প্রকাশ করে, তখন তাকে পরোক্ষ উক্তি বলা হয়।বক্তার কথার উত্তম পুরুষ বাচক পদগুলি পরোক্ষ উক্তিতে প্রথম পুরুষে পরিণত হয়। যেমন - তিনি বললেন যে, আজ কোনভাবেই তার পক্ষে অফিসে যাওয়া সম্ভব নয়। সাধারণভাবে প্রত্যক্ষ উক্তি থেকে পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তরের প্রচলনই বেশি।
প্রত্যক্ষ উক্তিতে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তনের নিয়ম :-
- প্রত্যক্ষ উক্তির ক্ষেত্রে যে উদ্ধৃতিচিহ্ন বা ইনভার্টেড কমা ব্যবহৃত হয়, পরোক্ষ উক্তিতে পরিণত করার সময় তা তুলে দিতে হবে এবং উক্তি শুরুর আগে একটি 'যে' বসিয়ে কমা দিতে হবে।
- প্রত্যক্ষ উক্তিতে ব্যবহৃত সর্বনাম, পুরুষ ও ক্রিয়াপদ পরোক্ষ উক্তিতে অর্থ অনুযায়ী পরিবর্তিত হবে।
- প্রত্যক্ষ উক্তিতে যদি ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম পদ সাধুভাষায় থাকে, তবে পরোক্ষ উক্তি ক্ষেত্রেও সেগুলির সাধু রূপ বজায় রাখতে হবে। যদি কোন বাক্যে উক্তির পূর্বে ব্যবহৃত ক্রিয়াপদটি সাধু ভাষায় থাকে এবং উক্তির অন্তর্গত ক্রিয়াপদ ও সর্বনাম চালিত হয়, সে ক্ষেত্রে রূপান্তরের সময় অন্তর্গত ক্রিয়া এবং সর্বনাম কেউ সাধু তে পরিণত করতে হবে।
- নির্দেশক বাক্যের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ উক্তির পূর্বে 'যে' বসিয়ে কমা দিয়ে পরোক্ষ ভঙ্গিতে বক্তার কথাকে পরিবেশন করতে হয়। যেমন - শ্যামল বললো, "আমার শরীরটা ভাল নেই।" ==> শ্যামল বললো যে, তার শরীরটা ভালো নেই।
- অনুজ্ঞাবাচক বাক্যের ক্ষেত্রে উক্তির পূর্বে যে ক্রিয়াপদ থাকে তা যদি অনুজ্ঞাবাচক না হয় তাহলে পরোক্ষ উক্তিতে রূপান্তর এর সময় সেটিকে প্রয়োজন অনুযায়ী অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়ায় পরিণত করা যেতে পারে। অর্থাৎ, 'আদেশ করল', 'অনুরোধ করল' প্রভৃতি ব্যবহার করতে হয়। যেমন - সৌরভ বাবু বললেন, "জানালাটা বন্ধ করে দাও।" ==> সৌরভ বাবু জানালাটা বন্ধ করতে অনুরোধ করলেন।
- প্রশ্নসূচক বাক্যের ক্ষেত্রে 'জিজ্ঞাসা করল', 'প্রশ্ন করল', 'জানতে চাইল' প্রভৃতি ব্যবহার করা হয়। বাক্যের শেষে জিজ্ঞাসা চিহ্ন ( ?) ব্যবহার না করে পূর্ণচ্ছেদ বসাতে হয়। যেমন - অসীম রোহিতকে বলল, "কোথায় যাবি?" ==> অসীম রোহিতকে জিজ্ঞাসা করল যে, সে কোথায় যাবে।
- প্রার্থনাসূচক বাক্যের প্রত্যক্ষ উক্তিতে পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে 'প্রার্থনা করলেন,' 'ইচ্ছা প্রকাশ করলেন', 'কামনা করলেন' প্রভৃতি ব্যবহার করতে হয়। যেমন - সৌরভ কহিলেন, "বাবুদিগের জয় হউক।" ==> সৌরভ বাবুদিগের জয় কামনা করলেন।
- বিস্ময়সূচক বাক্যে প্রত্যক্ষ উক্তির পূর্বে ব্যবহৃত ক্রিয়াপদটিকে 'বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন', 'আক্ষেপের সঙ্গে বললেন' প্রভৃতিতে রূপান্তর করতে হয়। যেমন - উঃ অনেক দূর। বড় ভারী জায়গায় শুনেছি কলকাতা। ==> বক্তা বিস্ময় প্রকাশ করিলেন এবং কলকাতা যে অনেক দূর ও খুব বিশাল জায়গা তাহাও বলিলেন।
| প্রত্যক্ষ উক্তি | পরোক্ষ উক্তি | প্রত্যক্ষ উক্তি | পরোক্ষ উক্তি |
|---|---|---|---|
| এই | সেই | এ | সে |
| ইহা | তাহা | আজ | সেদিন |
| আগামীকাল | পরদিন | গতকাল | আগের দিন |
| আগামীকল্য | পরবর্তী দিন | গতকল্য | পূর্ব দিন |
| ওখানে | ঐখানে | এখানে | সেখানে |
| এখন | তখন |

